বিয়ের প্রস্তুতি নিতে যা করবেন August 30, 2019 Beauty Tips, Career, Fashion, Lifestyle, Women, Women's BD, Women's World

বিডি ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেস্কঃ  শীত মানেই বিয়ের মৌসুম। অ্যারেঞ্জ কিংবা লাভ ম্যারেজ সবাই অপেক্ষা করে এই শীত মৌসুমের জন্য। বিয়ে ঘিরে নানা স্বপ্ন তাই অনুষ্ঠানটি হওয়া চাই নিখুঁত। বিয়ে বিষয়ে নারীদের হরেক প্রস্তুতি নিতে হয়। জেনে নিন তেমনি কিছু প্রয়োজনীয় টিপস-

১. বিয়েতে আপনি একা কিছুই করতে পারবেন না। একান্ত কাজগুলোও অন্যদের দিয়ে করাতে হবে। তাই এক্ষেত্রে বোন, বান্ধবী, কাজিন এমন বিশ্বস্ত কাউকে কাছে রাখুন, যে আপনার সবকিছু ঠিকভাবে খেয়াল রাখবে। টিস্যু, পানি এনে দেয়া, শাড়ির কুচি ঠিক করা, সেফটিপিন লাগানো, কুঁচকে যাওয়া ওড়না ঠিক করে দেয়া, যাবতীয় সব কাজে যথাসাধ্য সাহায্য করবে।

২. বরের দেয়া সুন্দর পার্সটি শুধু ফটোশ্যুটের জন্যই রাখবেন না। পার্সটিতে অবশ্যই টিস্যু, সেফটিপিন, ব্লটিং পেপার, ফেসপাউডার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্পিয়ারমিনট ইত্যাদি সহ মাথা ব্যাথার মেডিসিন সঙ্গে রাখবেন। ভীড়, হৈ-হুল্লোড়ে বিয়ের কনের মাথা ব্যাথা নতুন কিছুনা।

৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় মেয়েরা ভুলেই যায়। আর তা হচ্ছে বিয়ের সময় মাসিকের তারিখ ভুলে যাওয়া। অবশ্যই এটা খেয়াল রাখতে হবে নাহলে এই সময় পড়তে হয় ভোগান্তিতে। তাই যাবতীয় প্রয়োজনীয় সব আগে থেকেই রেডি করে রাখুন।

৪. সুন্দর ও স্টাইলিশ দেখানোর জন্য অস্বস্তিকর কিছু পড়বেন না। বিশেষ করে ব্লাউজ ও জুতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিয়েতে অবশ্যই নতুন জুতা পড়বেন তাই আগে থেকেই বার বার ট্রায়াল দিবেন। ফোস্কা, বা পড়ে হাঁটতে সমস্যা হবে কিনা দেখে নিন। বিয়ের শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে কমপক্ষে ১০দিন আগেই ব্লাউজ বানাতে দিবেন। অতিরিক্ত টাইট বা লুজ কিনা তাও আগেই যাচাই করে নিন।

৫. একদিনের জন্য সস্তা খুজতে গিয়ে নিজের বিয়ের লুক নষ্ট করবেন না। বিয়েতে যে মেকআপ ব্যবহার করবেন, নিশ্চিত করুন তা ওয়াটারপ্রুফ কিনা! বিশেষ করে আই মেকআপ। বিয়ের আবেগময় মুহূর্তে প্রায় প্রত্যেক কনের চোখে জল আসে। যেখানেই মেকআপ করুন, কোনোভাবেই ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ বাদ দেবেন না।

৬. মেকআপের আগে অবশ্যই প্রাইমার ব্যবহার করবেন। মশ্চারাইজার ছাড়া এতো ভারী মেকআপ করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। প্রাইমার ইউজ না করলে ব্রণ উঠলে বিয়ের পর দিন র‌্যাশ আর ব্রণসহ আপনার ন্যাচারাল লুক দেখেও যে কেউ অবাক হয়ে যেতে পারে!

৭. যতই চটপটে হোন না কেন বিয়ের দিন একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করবেন। ভারী গয়না-শাড়ি পড়ে বেশি হাঁটাহাঁটি করতে যাবেন না। আগে থেকে একজনকে বলে রাখবেন আপনার পোশাকের দিকে কড়া নজর রাখতে।

৮. বিয়ের আগেই পছন্দ মতো মেকআপ লুক এবং ওয়েডিং ফটোগ্রাফির এর ছবি কালেকশন করুন। আগে থেকেই আপনার লুক প্ল্যান করুন। অনেকেই অনেক টাকা খরচ করেও পছন্দমত লুক পায়না। পছন্দসই কালেকশন অনুযায়ী আপনার চাহিদা মেকআপ আর্টিস্টকে বুঝিয়ে বলুন।

৯. কনের পক্ষে এটা প্রায় অসম্ভব তবুও নিজে বা কাছের কাউকে দিয়ে খুব ভালোভাবে জানুন, বিয়ের ভেন্যুতে লাইটিং, বিয়ের দিনের আবহাওয়া কেমন হতে পারে ,ছবি কখন তোলা হবে, দিনে না রাতে? সব তথ্য আপনার বিয়ের মেকআপ আর্টিস্টকে জানান। অভিজ্ঞ মেকআপ আর্টিস্ট আপনার লাইটিং, কস্টিউম সব কিছু মাথায় রেখে মেকআপ করলে সবকিছু পারফেক্ট লাগবে।

১০. অন্যান্য সকলের চেয়ে আপনার বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ফটোগ্রাফার এর সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলুন। কীভাবে, কেমন, কোন ধরনের ছবি তুলে রাখতে চান তা তাকে জানিয়ে রাখুন এতে করে আপনি খুব সুন্দরভাবেই বিয়ের দিন পোজ দিতে পারবেন। অন্যথায় হুট করে বিয়ের দিন এক্সপ্রেশন দিতে একটু বিব্রত বোধ করতে পারেন।

১১. অনেকেই পার্লারের মেয়েদের কথায় বিয়ের একদিন আগেই নামিদামি অনেক ফেসিয়াল করে থাকে। এই ভুলটা করবেন না। অনভ্যস্ত ত্বকে এত ঘষাঘষি আর বিভিন্ন প্রোডাক্ট ইউজ করার পরিণাম হতে পারে ব্রণ। পরে এগুলো ঠিক করতেই আপনার দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।

১২. যারা রেগুলার ফেসিয়াল, ওয়াক্সিংসহ ম্যানিকিওর,পেডিকিওর করেন। তারাও ১ সপ্তাহ আগে সেরে ফেলুন। রিঅ্যাকশন হলেও রিকভার করার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

১৩. বিয়েতে ট্রেডিশনাল লুক রাখার চেষ্টা করুন। যাতে সকলের আগে নজর বউয়ের দিকেই থাকে। লিপ্সটিকের কালারের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখবেন। রেড কিংবা রোজ রেডিস কালারটা প্রেফার করুন। ন্যুড মেকআপ না করাটাই ভালো। ন্যুড মেকআপের সঙ্গে ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহার করলে আপনাকে প্রাণহীন আর নির্জীব লাগতে পারে।

১৪. আশেপাশের কারো কাছে অবশ্যই পানি রাখবেন। পানির তৃষ্ণা পেলে সামান্য পানি খাবেন। তবে বেশি খেলে প্রসাবের চাপ হতে পারে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মেকআপ-শাড়ি পড়ার আগেই বাথরুম সেরে ফেলুন। বিয়ের শাড়ি পড়ে বাথরুমে যাওয়া আবার আরেক ঝামেলা।

১৫. জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়ের নাম বিয়ে, তাই এসময় একদমই মুখ গোমড়া রাখবেন না। সবকিছু মন থেকে উপভোগ করুন। সকলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলুন, হাসুন আর খুশি থাকুন। তবেই সারাজীবন স্মৃতিটা স্পেশাল লাগবে।